আমার পিতা

0
118
আরিফ মাসুদ বাবু :
আমার পিতা এ্যাডভোকেট সাজেদ আলী মিয়া ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর । ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। এসএসসি পাশ করার পর ১৯৪৩ সালে যোগ দেন বৃটিশ আর্মিতে। সেখানে সৈনিক হিসেবে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ছিলেন। পরে সৈনিক পদে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধেও অংশ নেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর সেচ্ছায় চাকুরি ছেড়ে ময়মনসিংহে ফরেস্ট অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৫৩ সালের দিকে ফরেষ্ট অফিসারের চাকুরি ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে আসেন নারায়ণগঞ্জ শহরে। নারায়ণগঞ্জে আসার পর তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। পাশাপাশি এ্যাডভোকেট হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর একজন প্রিয়ভাজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি আওয়ামীলীগের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত যোগ দিতেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেশের বিভিন্নস্থানে কর্মসূচি পালনের জন্য সফরসঙ্গীও হয়েছেন তিনি। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু আমার পিতাকে তৎকালীন বৈদ্যেরবাজার বর্তমান সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর সাথে সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলেন তিনি। সোনারগাঁও অঞ্চলে আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে আমার পিতা সাজেদ আলী সাহেবের ভূমিকা ছিল অনন্য। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন স্বাধীকার আন্দোলনে যখন পুরো দেশ উত্তাল তখন তিনি ঢাকায় নিয়মিত সভা সমাবেশে অংশ নিতেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে ঘনিষ্টতার কারণে ১৯৬৯ সালের ২৭ জুন আমার পিতার নিমন্ত্রনে বঙ্গবন্ধু আমাদের ফুলবাড়িয়ার বাড়ীতে বেড়াতে এসেছিলেন। সেদিন আমার মা বঙ্গবন্ধুকে নিজ হাতে খাসির বিরিয়ানী রান্না করে খাইয়েছিলেন।পরিবারের সদস্যদের সাথে বঙ্গবন্ধু অনেক হৃদ্যতাপূর্ণ ভাবে কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি আমার ছোট বোনকে তিনি কোলে তুলে আদর করেছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে আমার পিতা সাজেদ আলী সাহেবকে নৌকা মার্কায় মনোনয়ন দিলে তিনি এ আসন থেকে এম সি এ নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার পিতা ছিলেন মুক্তযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।
তিনি ভারতে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের যাবতীয় ব্যবস্থা করেছিলেন। এম সি এ থাকা অবস্থায় ১৯৭০ সালে ডেমড়ায় ভয়াবহ ঝড় হয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার পিতা সাজেদ আলী সাহেব সরাসরি ত্রাণ বিতরণে অংশ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার পিতার গভীর সম্পর্ক ছিল। ১৯৭৩ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে বঙ্গবন্ধু কুমিল্লায় এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় পথসভায় অংশ নেন। সেসময় এ আসনের এমপি ছিলেন আমার চাচাতো ভাই মরহুম মোবারক হোসেন। তবে ওই পথ সভাতে আমার পিতা ও আমার ভাই মোবারক হোসেন উভয়ই উপস্থিত ছিলেন। সাথে ছিল আমার আরেক ছোট বোন। তখন বঙ্গবন্ধু আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। বাড়িতে তোমার যে মেয়েকে দেখেছিলাম সে কোথায়? তাকে নিয়ে আসনি?
১৯৭৪ সালে আমি একবার আমার পিতার সাথে ঢাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেসময় বঙ্গবন্ধু নিয়ম করেছিলেন বিকেলে চা নাস্তা খেয়েই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। বড় ভূড়িভোজের আয়োজন করা যাবে না। সম্ভবত ঢাকা লেডিস ক্লাবে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। তাজউদ্দিন আহমদের ভাতিজার বিয়ে ছিল সেটি। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হয় আমার।
আমার পিতা মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন কিছুদিন।
আমার পিতাসহ আমাদের পরিবার থেকে যারা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিয়েছেন এবং বর্তমানে যারা আছেন এবং সোনারগাঁও এর আপামর জনসাধারনের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন সকলের জন্য দোয়া চাই। আমরা সোনারগাঁও এর সর্বস্তরের জনগনের পাশে ছিলাম আছি থাকবো ইনশাআল্লাহ।
 
লেখক : আরিফ মাসুদ বাবু
চেয়ারম্যান, মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ
সদস্য, আহবায়ক কমিটি, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগ
** সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম “ ফেসবুক “ থেকে নেয়া

আপনার মতামত কমেন্টস করুন