জামপুরে অবৈধভাবে খাল দখলের অভিযোগে বিএনপি নেতা গোলজারকে ১ মাসের কারাদণ্ড

0
108

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:

সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় এ্যাম্পিয়ার নামের একটি স্টীল কোম্পানিকে পার্শ্ববর্তী খাল দখল করে দেওয়ার অভিযোগে গোলজার নামের এক বিএনপি নেতাকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।  বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম খাল দখলের সত্যতা পেয়ে আটক করে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। পুলিশ তাকে বিকেলেই কারাগারে প্রেরণ করে। দন্ডপ্রাপ্ত গোলজার বস্তল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

গোলজার সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের বিএনপি জামায়াতের নাশকতাসহ ২২ মামলার আসামী গোলজার। সে এখন আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

বস্তল এলাকায় সাধারণ মানুষের জমি ও সরকারি খাল জোর পূর্বক দখল করে একটি কোম্পানিকে বুঝিয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।  গোলজারের দাপটে সাধারণ মানুষসহ ওই এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে বস্তল গ্রামের বাসিন্দা গোলজার হোসেন সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সরকার বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ওই এলাকায় গাড়ি ভাংচুর,  জ্বালাও পোড়াও করে। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাদি হয়ে ২২ টি মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি বস্তল এলাকায় এ্যাম্পিয়ার নামের একটি স্টীল কোম্পানির জমি ক্রয়ের দ্বায়িত্ব পায়। জমি ক্রয়ের দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর সে বেপরোয়া হয়ে উঠে। ওই এলাকার কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ম্যানেজ করে কিছু জমি ক্রয়ের পাশাপাশি সরকারি জমি, পার্শবর্তী খাল ও সাধারণ মানুষের জমি জোর পূর্বক দখল করে কোম্পানিকে বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

গত শনিবার দুপুরে এ্যাম্পিয়ার স্টীল মিলের জমিতে বালু ভরাটের জন্য বিভিন্ন মানুষের বাড়িঘর নস্ট করে সংযোগ পাইপ বসানোর চেষ্টা করে। পরে আল আমিন গ্রুপের বাবুল মিয়ার বাড়ির পাশ দিয়ে ড্রেজারের পাইপ লাইন স্থাপন করার কাজ শুরু করে। বাবুল মিয়ার জায়গা দিয়ে পাইপ লাইন স্থাপন করা নিয়ে গোলজার মিয়ার সাথে তার তর্ক-বির্তক হয়। এক পর্যায়ে এ্যাম্পিয়ার স্টীল লিমিটেডের মালিক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য উদ্যােগ গ্রহণ করে। এ ঘটনার পর শনিবার দুপুরে গোলজার গ্রুপের গোলজার ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাবুলকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে শুরু হয় দূ’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও গোলজার গ্রুপের লোকজন এসময় বাবুলের নির্মান করা মাছের প্রজেক্টের ঘরকে জুয়ার আসরের ঘর উল্লেখ করে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

খবর পেয়ে তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিলাব গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানায়, গতকাল শনিবার বালু ভরাট করার কাজ নিয়ে দূ’গ্রুপের মধ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়লে গোলজার গ্রুপের লোকজন বাবুলের মাছের প্রজেক্টের ঘরকে জুয়া আসরের ঘর উল্লেখ করে আগুন লাগিয়ে দেয়।

সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন,  ভ্রাম্যমান আদালতে দন্ডপ্রাপ্ত গোলজারকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন