বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়ে ইতিহাস ঐতিহ্যের কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

0
170

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়ে ইতিহাস ঐতিহ্যের লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ লোকজ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রধান মন্ত্রীর অনুগ্রহে এ ফাউন্ডেশনে ১৪৭ কোটি টাকার একটি বরাদ্ধ এসেছে। এর মধ্যে ১শ কোটি টাকার দরপত্র অনুমোদন হয়েছে। কার্যাদেশ পেলেই উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। আগামী এক বছরে এ ফাউন্ডেশনে দৃশ্যমান কাজ দেখতে পাওয়া যাবে। কাজগুলো দৃশ্যমান হলে কারুশিল্পীদের মূল্যায়ন বাড়বে।

সোমবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে উন্নয়ন কাজ শেষ হলে ফাউন্ডেশনে নতুনত্ব আসবে। ফলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। সরকারের রাজস্বও বাড়বে। তিনি আরো বলেন, ফাউন্ডেশনের দোকান বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক কারুশিল্প এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। কারুশিল্পদের এ কাজে উজ্জীবিত করতে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা প্রকৃত কারুশিল্পীদের দোকান বরাদ্দ দিবো।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সোনারতরী লোকজ মঞ্চে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলাম, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টিসহ মহাজোটের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ৩ জন প্রথিতযশা কারুশিল্পী পটুয়াখালীর মৃৎশিল্পী বিশ্বেশ্বর পাল, কিশোরগঞ্জের নকশি পিঠা শিল্পী শামসুন্নাহার বেগম ও কুমিল্লার খাদি তাঁতশিল্পী চিন্তা হরন দেবনাথকে স্বর্ণপদক ও নগদ ৩০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ লোক জীবন প্রদর্শনী ও গ্রামীন খেলা ও মেলা প্রাঙ্গন পরিদর্শন করে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিলুপ্ত লোকজ ঐতিহ্যেকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিবছর লোকজ মেলা ও লোকজ উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এ বছর মেলায় ৭৫টি স্টল স্থান পেয়েছে। মেলা চত্বর প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। গতকাল সোমবার থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

ফাউন্ডেশন সূূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে কারুশিল্পী মেলায় প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নওগাঁও ও মাগুরার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের তালপাখা ও নক্শি পাখা, রংপুরের শত রঞ্জি, সোনারগাঁওয়ের হাতি ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারু শিল্প, নক্শিকাঁথা, বেত ও বাঁশের কারুশিল্প, নক্শি হাতপাখা, সিলেট ও মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, কুমিল্লার তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরা কোটা শিল্প, সোনারগাঁওয়ের পাটের কারু শিল্প, নাটোরের শোলার মুখোস শিল্প, মুন্সিগঞ্জের পট চিত্র, ঢাকার কাগজের হস্ত শিল্পসহ মোট ১০০টি স্টল থাকছে। এছাড়াও লোক কারু শিল্প মেলা ও লোকজউৎসবে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান,লালন সংগীত, মাইজভান্ডারী গান, মুর্শিদী গান, আলকাপ গান, গাঁয়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তী-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথি পাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, দোক খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি থাকবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন