মধুময় বাংলার মধুমাস

0
83

 

মো. মোয়াজ্জেনুল হক :

গ্রীষ্ম,বর্ষা, শরৎ,হেমন্ত,শীত, বসন্ত। ছয়টি পাখি ছয়টি রূপে এসে বাংলাদেশে, ছয়টি সুরে করে ডাকাডাকি। গানের এই কথাগুলো মনকে এক নিমিষে নাড়িয়ে দেয় আমার দেশ বাংলাদেশের শ্যামলিমা রূপের বাহার আহা। আমাদের দেশ প্রতি বছর ছয় ঋতুতে ছয় রকম সাজগোজ করে আমাদের সামনে হাজির হয়।

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবেনাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।
ফলে ফুলে ভরা আমাদের দেশে মধুমাসে নানান ফল পাওয়া যায়। আম জাম কাঠাল,লিচু, আনারস, এতো গেলো গ্রীষ্মকালিন ফল। তাল পাকা গরমের মাস ভাদ্র মাসে আমরা পাকা তালের রস, পিঠা খাই। বর্ষায়, কামরাঙা, আমলকী, করমজা,জামরুল, লটকন, ওয়রবরই, কাঁউ, ডেউয়া, বিলমব, পেয়ারা, সারাবছরের ফল পেঁপে নিয়তো কথাই নেই। খিরাই, বাঙ্গি, তরমুজ এসব আসে ফাল্গুন চৈত্র মাসের ফল, কলা যদিও সারাবছর আমাদের দেশে পাওয়া যায় তবুও সুস্বাদু সাগর কলা গ্রীষ্মকালেই ইচ্ছেমতো পাওয়া যায় এবং খাওয়া যায়।
এসব ফলের গুণাগুণের কথা সবাই আমরা কমবেশি জানি। মৌসুমী ফল মানব দেহের পুষ্টি পুরন করে থাকে। তাই বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফল প্রচুর পরিমানে খেয়ে নিতে আমারা ভুল করিনা।

আম কাঠালের দিনে জামাই বাড়িতে আম কাঠাল পাঠাতে বাঙালিরা ভুল করেনা। যার যেমন সাধ্য আছে মৌসুমী ফল আত্মীয়ের বাড়িতে আদান প্রদানে আন্তরিকতা অতুলনীয়। নিজ গাছের ফলটা প্রতিবেশীদের নিয়ে খাওয়ার মজা সেকি আনন্দের! গ্রাম বাংলার হাট বাজার গুলোতে গ্রীষ্মকালে আম জাম কাঁঠাল, লিচু, আনারস ইত্যাদি ফলের সমাহার ঘটে। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয় মৌসুমি ফলের আমদানিতে। বাড়ির আঙিনায় আম গাছ, জাম গাছ, কাঠাল গাছ বাড়ির সৌন্দর্য বিষ্ময়কর! মনের গহীনের দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টায় বিষ্ময়কর অনুভব অনভিপ্রেত নয়। আমার বাড়ির মুল দরজার সামনে একটি বেল গাছ, অনতিদূরে একটি কাঁঠাল গাছ, ঘরের উত্তর কোনের আমগাছ, ঘরের পিছনের জামগাছটি আমার জীবনের অস্তিত্ব মিশে আছে। পাখির কলকাকলীতে মুখরিত পরিবেশের পাশাপাশি শিশুকিশোরদের কলকাকলীতেও কম যায়না। বিশেষ করে ছোট ছোট মেয়েরা জাম গাছের তলায় যেন তাঁদের বিচরণ পাকাপোক্ত করে লয়। পুরো আম জামের মৌসুম জুড়ে তাদের হৈচৈ পাড়াপড়শিদের দেয় অকৃত্রিম আনন্দ। যা হৃদয়াখী দিয়ে না দেখলে নির্মল আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। গ্রীষ্ম কালের মধুময় ফলের মধুময় আনন্দ জীবনকে করে তুলে মধুময়।

আজ হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় শেষ হয়েছে। প্রতিটি বাঙালি পরিবারের প্রথম কাজ হলো নিজ নিজ বাড়িতে ফলবৃক্ষ রোপন করা। ফল মানব দেহের রোগপ্রতিরোধক। যে কোন ফল মানবশরীরে পুষ্টি যোগাতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। নিজেকে সুস্থ রাখতে ফল গাছ রোপনের বিকল্প নেই। একটা মাঝারি পরিসরের বাড়িতে যে যে গাছগুলো লাগানো যায়, তা হচ্ছে, আম,জাম,কাঠাল,লিচু, পেয়ারা, পেঁপে, আতা, লেবু, আমড়া, জামরুল, বেল, কদবেল, কাঁউ, আমলকি, ওয়রবরই, আমড়া,লেবু,বেল, এসবের দুটি করে গাছ লাগানো কোন কঠিন বিষয়ইনা। যাদের বাড়ি ছোট তারা ছোট পরিসরেই করুকনা কেনো। যাদের কোন বাড়িই নেই তাঁরা সরকারি পতিত জমিগুলোতে সেচ্ছাশ্রম দিয়ে নিজ ও প্রতিবেশিদের উপকারে লাগতে পারে। অন্যের বাড়িতেও ফলের গাছ লাগিয়ে দিতে পারে। সেটাই হওয়া উচিৎ মনের আনন্দ, জীবনানন্দ। এতে নিজ সামাজিক পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা হয়। পাখ পাখালির বাংলাদেশে পাখিদের আহারের ব্যবস্থা এটাও কম কিসের। বাঙালির প্রতিটি পরিবারের মৌসুমি ফলের সমারোহে আকৃষ্ট হওয়া কলকাকলীতে ঘুম ভাঙ্গুক নির্মল আনন্দের ভুবণে।

লেখক :  মো: মোয়াজ্জেনুল হক,  ব্যাংকার

আপনার মতামত কমেন্টস করুন