সোনারগাঁওয়ে জমি বিক্রি না করায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

0
118

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নবী নগর এলাকায় জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় অপহরণ করে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ক্ষুদ্র শিল্প মালিকের বিরুদ্ধে। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃত ওই জমির মালিককে সন্ধ্যার উদ্ধার করে। এঘটনায় ৫জনকে আসামী করে অপহৃত মো. খাবির আহম্মেদ বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার চরকামালদী গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে মো. খাবির আহম্মেদের নবীনগর এলাকায় হামেশা গ্রুপের পাশে তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একটি জমি বিক্রির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই জমি হামেশা গ্রুপের মালিক আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ মাওলানা জমিটি কম দামে ক্রয়ের জন্য পায়তারা করে আসছে। সম্প্রতি ওই জমিটি বেশি দামে জনৈক সুজিত কুমার সাহা নামের এক ব্যক্তির নিকট বিক্রি বাবদ ৩ লাখ টাকা বায়না নেয়। ওই টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বায়না নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে জমির মালিক খাবির আহম্মেদকে চৌরাপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ মাওলানার নেতৃত্বে আবুল কালাম, সানাউল্লাহ,ওয়াসকরুনী, মো. সিদ্দিকসহ ৫-৭জনের একটি দল অপহরণ করে হামেশা গ্রæপের কারখানায় আটক করে শারিরিকভাবে নির্যাতন করে। এসময় অপহরণকারীরা ২৫ লাখ টাকার বায়না দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তাকে হত্যার ভয়ভীতি দেখানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃত মো. খাবির আহম্মেদকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত ওই জমির মালিককে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে অপহৃত খাবির আহম্মেদ বাদী হয়ে ৫জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন।
চরকামালদি গ্রামের শহিদ মিয়া জানান , আসাদ মাওলানা আমার জমি এক লাখ টাকায় বায়না করে রেজিষ্ট্রি না করেই ওই জমি থেকে গভীর করে কেটে লাখ লাখ টাকায় মাটি বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রির জন্য চাপ দিলে ওই জমি নেবে না বলে হুমকি দেয়। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হই।

অপহৃত খাবির আহম্মেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে আসাদ মাওলানা আমাদের জমি কম দামে কেনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা ওই জমি তার কাছে বিক্রি না করায় আমাকে চৌরাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে তুলে নিয়ে তার কারখানার ভেতরে নিয়ে আটকে রেখে লোহার রড, হকিস্টিক ও ক্রিকেটের স্ট্যাম দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন করে।

অভিযুক্ত আসাদুল ইসলাম ওরফে আসদ মাওলানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাবিল আহম্মেদ আমার কাছে জমি আগে এক লাখ টাকায় বায়না করে বিক্রি না করে ওই জমি অন্যত্র আবারও বায়না করেছে। এ বিষয়ে তাকে ডেকে এনে জানতে চেয়েছি। অপহরণের বিষয়টি সঠিক নয়।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ইউসুফ দেওয়ান বলেন, আসাদ মাওলানার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের একধিক বিচার শালিস ডাকা হয়েছে। তাকে নোটিশ করা হলে সে তোয়াক্কা করে না। মানুষের জমি জোরপূবর্ক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এবিষয়ে একটি অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন